একুশ শতকে এসে মানুষ এতটাই আপডেট হয়েছে যে তারা ঘরে বসে টাকা আয় করার উপায় খুঁজে বেড়ায়, যা একসময় মানুষের নিকট অবিশ্বাস্যকর ব্যাপার ছিলো। ঘরে বসে উপার্জনের মাধ্যমগুলোর মধ্যে কন্টেন্ট রাইটিং হলো সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম। সিংহভাগ মানুষ লেখালেখিতে অভিজ্ঞ হলেও এর সঠিক ব্যবহার অর্থাৎ কোথায় মূল্যায়ন আছে সেটা জানেনা।

আর যারা জানে তারা অনেকদূর পৌঁছে যায়। কন্টেন্ট রাইটিং তথা ফ্রিল্যান্স এর কাজ করে আজকের যুগে মানুষ অনেক এগিয়ে। অন্য সবার মত লেখকগণ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতেছে তারা তাদের কাজ দিয়ে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করছে যুবকরা যুবতিরা।

বর্তমান যুগ আধুনিকতার যুগ, এই যুগে কন্টেন্ট রাইটিং একটি শ্রবণীয় বিষয় কিন্তু এর সম্পর্কে বিশদভাবে কয়জনেই বা জানে? সবার কমন প্রশ্ন কন্টেন্ট রাইটিং কি এবং কিভাবে লেখালেখি করে আয় করা যায়? ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমরা হাজির।

কন্টেন্ট রাইটিং কি? (What is Content Writing?)
মূলত কন্টেন্ট হলো তথ্যের ভাণ্ডার। আর বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে সুন্দর করে লেখার মাধ্যমে উপস্থাপন করলে সেটা হয় কন্টেন্ট রাইটিং। যেটির অন্য নাম আর্টিকেল রাইটিং। শুধুমাত্র “কন্টেন্ট” বলতে কেবল আর্টিকেল রাইটিং কেই বুঝায়না, আর্টিকেল বা কন্টেন্ট রাইটিং ছাড়াও ভিডিও, অডিও এবং ইমেজ কন্টেন্টকেও বুঝায়।

ভিডিও কন্টেন্টঃ- তথ্যের ভিডিওকে বলা হয় ভিডিও কন্টেন্ট। অর্থাৎ ভিডিও ধারণ করে যে কন্টেন্ট তৈরি করা হয়ে থাকে সেগুলোই ভিডিও কন্টেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন – Facebook video, Youtube Video, ইন্সটাগ্রাম ভিডিও, movies, drama, web series ইত্যাদি।

ইমেজ কন্টেন্টঃ- ছবিকে এডিট করে যে কন্টেন্ট তৈরি করা হয় তাকে বলা হয় ইমেজ কন্টেন্ট। বর্তমান সময়ে ইমেজ কন্টেন্ট এর চাহিদা অনেক বেশি। কোটিকোটি ইমেজ কন্টেন্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেমন – গ্রাফিক, লোগো এবং Template ইত্যাদি।

অডিও কন্টেন্টঃ- ভয়েস অথবা শব্দের মাধ্যমে ধারণকৃত অডিওকে বলা হয় অডিও কন্টেন্ট। এফ এম এবং পডকাস্ট হলো অডিও কন্টেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত।

কন্টেন্ট রাইটিং কাকে বলে?
সহজভাবে বলতে গেলে কন্টেন্ট রাইটিং বলতে বুঝায় কোন বিষয়ের উপর লেখালেখি করাকে। অর্থাৎ, নিজের মত করে সহজ এবং সাবলীল ভাবে কোন একটি বিষয়ের উপর সুন্দর ভাবে তথ্য উপস্থাপন করা। যতটা সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করলে পাঠকদের বোধগম্য হবে। আর পাঠকগণ কোন রাইটারের লেখা পছন্দ করার মানে হলো রাইটারদের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরুপ। রাইটারদের এগিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার এটি। আর তাই ভালো লেখা রিডারদের ইম্প্রেস করে, আর রাইটারের কন্টেন্টের প্রতি আগ্রহ দেখানোর ফলস্বরূপ রাইটারগণ আরো বেশি এগিয়ে যায়। রিডারদের দেখানো এই আগ্রহ রাইটারদের কে আরো ভালো করতে উদ্বুদ্ধ করে। এতে করে আরো ভালো লেখা উপস্থাপন করার পথ তৈরি হয়।

কন্টেন্ট রাইটিং বলতে শুধুমাত্র ওয়েবসাইট বা পত্রিকার জন্য আর্টিকেল রাইটিং কে বুঝায়না এগুলো ছাড়াও ব্লগ পোস্ট, ভিডিও স্ক্রিপ্ট, পডকাস্টসহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম যেমন ইন্সটাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুকের কন্টেন্টকেও বুঝিয়ে থাকে। তাই কন্টেন্ট যেকোনো ধরণের হতে পারে।

কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার?
কন্টেন্ট রাইটিং দুই ধরণের। তার মধ্যে একটি হলো- ক. অনলাইন কন্টেন্ট রাইটিং। অন্যটি হলো খ. অফলাইন কন্টেন্ট রাইটিং।

অনলাইন কন্টেন্ট রাইটিং কি
অনলাইন কন্টেন্ট রাইটিং বলতে অনলাইন ভিত্তিক কোন সাইটে বা নিউজ প্লাটফর্ম গুলোতে কন্টেন্ট লেখাকে বুঝায়। যেমনঃ ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা, ইউটিউব ভিডিও এর জন্য স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে অনলাইন কন্টেন্ট রাইটিং।

অফলাইন কন্টেন্ট রাইটিং কি
অফলাইন কন্টেন্ট রাইটিং বলতে বুঝায় অফলাইন ভিত্তিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বই লেখাকে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটের প্রয়োজন নাই খাতায় লিখে সেটা যথাস্থানে পাঠিয়ে দিতে হয়, যা অফলাইন কন্টেন্ট রাইটিং নামে বিবেচিত। একসময়ে এটি চলমান ছিলো, যেসময়ে অনলাইনের কথা মানুষ জানতোনা বা জানলেও নিজেরা অনলাইন জগতে এভাবে বিস্তার করতে পারতোনা, কালের বিবর্তনে মানুষ অনলাইনে অবাধে বিচরণ করতেছে। আর বিচরণ যারা সঠিকভাবে নিয়েছে তারাই এগিয়ে গেছে। যেমন এ যুগের যুবকেরা ঘরে বসেই দেশকে উপস্থাপন করতেছে বিশ্বদরবারে।

কন্টেন্ট রাইটিং করার জন্য কি কি দক্ষতা থাকতে হবে?
শুধুমাত্র কন্টেন্ট রাইটিং নয়, যেকোন কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় কিছু বেসিক জ্ঞান তথা দক্ষতা থাকা আবশ্যক। দক্ষতার পাশাপাশি যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

  • যেহেতু কন্টেন্ট রাইটিং কোন বয়সের উপরই নির্ভর নয়, সেহেতু যেকোন বয়সের মানুষের লেখালেখিতে অভিজ্ঞ থাকা জরুরি।
  • তাছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রী লাভকারী বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়।
  • ইংরেজী হলো আন্তর্জাতিক ভাষা, সুতরাং সর্বক্ষেত্রেই ইংরেজী জ্ঞাত ব্যক্তিরাই গ্রহণযোগ্য। কমিউনিকেশন ছাড়াও আন্তর্জাতিক যে সাইটগুলোতে রাইটার কাজ করবে, সেসব সাইট ইংরেজভাষীদের অধিক গুরুত্ব দেয়।
  • কন্টেন্ট তথা আর্টিকেল রাইটিং এর ক্ষেত্রে ইংরেজী ভাষা শিক্ষার পর কম্পিউটার টাইপিং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রধান বিষয় হলো পড়াশোনা। অধিক পরিমাণে পড়াই সৃজনশীল লেখনীতে সাহায্য করে থাকে।
  • যে ভাষায় কন্টেন্ট লেখা হবে সে ভাষা শিক্ষার পরে গ্রামার জানা আবশ্যক। যদি ইংরেজি ভাষায় কন্টেন্ট লেখা হয় তবে ইংরেজি ভালোভাবে জানতে হবে। আপনি চাইলে দ্রুত ইংরেজি শেখার সহজ উপায় সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
  • এছাড়াও রিসার্চ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়
কন্টেন্ট রাইটিং করার জন্য সর্বপ্রথম পড়ার অভ্যাস করা আবশ্যক। লেখালেখির চর্চার পাশাপাশি প্রচুর পড়াশোনা এবং রিসার্চের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বইপড়া মানুষকে পরিপক্ব করে। আর একজন রাইটার ভিতর থেকে পরিপক্ব হওয়ার ফলস্বরূপ তার লেখাগুলো চমকপ্রদ হবে। কন্টেন্ট রাইটিং শেখার ক্ষেত্রে ইউটিউব বা ব্লগের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। আর্টিকেল লেখার আগে ধরণ বুঝে সে অনুযায়ী লিখলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

আর কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি তা হলো কিওয়ার্ড সিলেক্ট করা। সর্বোপরি কন্টেন্ট রাইটিং শেখার ক্ষেত্রে পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যত বেশি পড়াশোনা করবে, বই পড়বে তত জ্ঞান অর্জন হবে এবং কন্টেন্ট রাইটিং শেখা হবে। আর পড়াশোনার সাথেসাথে লেখার চর্চা থাকলে কন্টেন্ট রাইটিং শেখা এবং শুরু করা আরো সহজ হবে।

কন্টেন্ট রাইটিং কোর্স করা কি জরুরি?
কন্টেন্ট রাইটিং এমন একটি বিষয় যেখানে মানুষ কোর্স করেও এগিয়ে যায় আবার কোর্স না করেও নিজের মত করে অনেক দূরে পৌঁছায়। অনলাইন তথা ইন্টারনেটের এই যুগে বহু প্রতিষ্ঠান ফ্রি অনলাইন কোর্স করিয়ে সার্টিফিকেট ও দিয়ে থাকে। আবার তাছাড়াও পেইড কোর্স করেও অল্পদিনে কাজ পেয়ে দ্রুত উপার্জন শুরু করা যায়। কোর্সে মূলত সঠিক গাইডলাইন দেওয়া হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিখতে এবং এগিয়ে যেতে পারে ভুল পথে যাওয়ার চান্স কম থাকে।

কিভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শুরু করা যায়?
দক্ষতা এবং যোগ্যতাগুলোর সঠিক ব্যবহার কন্টেন্ট রাইটিং শুরু করতে উৎসাহ দিয়ে থাকে। এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্টগুলো সার্চ ইঞ্জিন এবং পাঠক উভয়ের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করতে হয় এবং পাঠকের বিশেষ চাহিদাগুলোর দিকে নজর দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।

লেখার ক্ষেত্রে অর্থাৎ আর্টিকেল রাইটিং এর ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনই গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞান অর্জনের উপর নির্ভর করেই লেখা সুন্দর এবং অসুন্দর হয়ে থাকে।

ভালো কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লেখার কিছু টিপস
কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন এবং পাঠকের কথা ভেবেই কন্টেন্ট তৈরি করা আবশ্যক। এসইও ফ্রেন্ডলি ও পাঠকদের উপকার হওয়াটাই কন্টেন্ট এর মূল উদ্দেশ্য। আর্টিকেলে এমন কিছু কিওয়ার্ড থাকা আবশ্যক পাঠক যা পড়ার জন্য সার্চ করে থাকে। অর্থাৎ এই আর্টিকেলে ” ভালো কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লেখার টিপস ” থাকার কারণে কোন পাঠক এটা সার্চ দিলে এই কন্টেন্ট সার্চ ইঞ্জিনের শুরুর দিকে থাকতে পারে।

একটি লেখা শুরু করার আগে রাইটারকে সেই বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে হবে আর সেজন্য কমপক্ষে ১০ টি সাইট থেকে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লেখা পড়ে নিয়ে সে অনুযায়ী নিজের ভাষায় অর্থাৎ সৃজনশীল মনোভাবে সুন্দর করে তথ্যের ক্রমবিন্যাস করা উচিত। এতে করে লেখা চমকপ্রদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

যতবেশি পড়া হবে তত জানা হবে, তত আইডিয়া বাড়বে এবং লেখা সহজ হবে। আর লেখার চর্চা চলমান থাকার কারণেই লেখাতে আরো বেশি ইম্প্রুভমেন্ট আসবে। নিম্নে উৎকৃষ্ট কন্টেন্টের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ-

  • ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা। লেখার ক্ষেত্রে সময় নিয়ে পড়ে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লিখতে হবে। এতে করে কন্টেন্ট ভালো লেখা যায়।
  • কিওয়ার্ড সিলেক্ট করা। কন্টেন্টে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেই জানা যাবে কোন টপিক বা নিশ উত্তম / উৎকৃষ্ট। আর ভালো ফলের জন্য অবশ্যই রাইটিং এর সাথে লেগে থাকতে হবে। দীর্ঘদিন এটির সাথে লেগে থাকলে অনেক কিছু বুঝা যাবে জানা যাবে অভিজ্ঞতা বাড়বে আর অভিজ্ঞতার আলোকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
  • বেশি পড়াশোনায় বেশি জানা হবে আর বেশি জানা হলে লেখার হাত ও প্রশস্ত হবে।
  • রাইটিং এর ক্ষেত্রে সঠিক এবং সত্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তা অনেক। আর্টিকেল নির্ভুল তথ্যের হতে হয়। এক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সচেতন হতে হবে।
  • আর্টিকেলে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা যাবেনা। সহজ এবং মার্জিত ভাষা পাঠকদের মন খুশি করবে এবং পাঠক তৈরি করবে।
  • আর্টিকেলে সুন্দর হেডলাইন ব্যবহার করতে হবে।
  • ছোট ছোট প্যারায় সুন্দরভাবে তথ্যের উপস্থাপন করতে হবে।
  • কোন পণ্য রিভিওর ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো খারাপ দুটো রিভিওই দিতে হবে।
  • কন্টেন্ট পূর্ণ ইউনিক হতে হবে। লেখা সমাপ্ত করার পর ইউনিক কিনা তা যাচাই করা অপরিহার্য।
  • লেখা শেষে রিভিশন দিতে হবে। যে কন্টেন্ট আপনার নিজের পছন্দ হবে সেটি ক্লায়েন্টকে দিন। কারণ যেটি আপনার পছন্দ হবেনা সেটি মুলত কারোই পছন্দনীয় হবেনা। আর তাই উৎকৃষ্ট মানের কন্টেন্ট প্রদান করতে হলে রিভিশনের ভূমিকা অপরিহার্য। রিভিশন দিয়ে লেখার মাঝে ভুল থাকলে তা সঠিক এবং এলোমেলো থাকলে তার ঠিক করে, সুন্দর লেখাকে আরো উচ্চতর মানের করার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। মনে রাখা জরুরী একশো অসম্পূর্ণ, অসুন্দর কাজ প্রদানের চেয়ে একটি মাত্র উৎকৃষ্ট কাজ প্রদান করা শ্রেষ্ঠতম কাজ।

কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ কোথায় পাবো?
কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ব্যর্থ হয় সঠিক প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে মানুষ অবগত না থাকার কারণে। লোকাল মার্কেট হিসেবে খ্যাত ফেসবুক গ্রুপ এবং জব। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কন্টেন্ট রাইটিং গ্রুপগুলোতে ক্লায়েন্টরা রাইটার হায়ার করে থাকে।

ফেসবুক জব এর ক্ষেত্রে বলতে গেলে বলা যায় জব অপশনে অভিজ্ঞ বিষয় নিয়ে সার্চ দিয়ে সে বিষয়ে কাজ খুঁজে নেওয়া সহজ। চাকরির সংবাদপত্র ছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় চোখ রাখা যেতে পারে কন্টেন্ট রাইটিং এর জব দেওয়া হয় এগুলোতে। ব্লগে লিখেও আয় করা যায়। নিজের ওয়েবসাইটেও লিখালিখি করা যায় যেটিতে সারাজীবন প্যাসিভ ইনকামের পথ তৈরি হয়। আর অন্যদের ব্লগে লিখতে হলে তাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন পড়ে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা যেতে পারে।

লেখালেখি করে আয় করার সাইট লিস্ট
লেখালেখি করে আয় করার ক্ষেত্রে দেশীয় অনেক সাইট রয়েছে, যেগুলোতে লেখালেখি করে টাকা উপার্জন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। সেসব সাইটের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলোঃ-

বাংলা আর্টিকেল রাইটিং সাইট
প্রথম আলো অনলাইন কন্টেন্ট
প্রথম আলো ওয়েবসাইটে গিয়ে একাউন্ট খুলে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে লেখা সাবমিট করা যাবে। যারা প্রফেশনাল এ জগতে তারা এখান থেকে মন মত টাকা তুলতে পারেন। আর যারা প্রফেশনাল নন তাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নাই। তাদের জন্য ও অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

জে আইটি আর্নিং পোগ্রাম
জে আইটি আর্নিং পোগ্রাম একটি চমৎকার কন্টেন্ট রাইটিং সাইট। যেখানে লিখে উপার্জন করার ক্ষেত্রে ভিউ হিসেব করা হয়। ১০০০ ভিউ হলে ৫০০ টাকা ২ হাজার ভিউ হলে ১০০০ টাকা দেওয়া হয়। এখানে সাবমিট করা কন্টেন্ট সর্বনিম্ন ৪০০শব্দের হতে হবে এর নিচে গ্রহণযোগ্য নয়। জেআইটি ওয়েবসাইটে একাউন্ট ক্রিয়েট করে লগ-ইন করার পর লেখা সাবমিট করা যাবে।

টেকটিউন্স
টেকটিউন্স একটি সোশ্যাল মিডিয়া। যেখানে ইচ্ছানুসারে যেকোন বিষয়ের উপর লেখা সম্ভব। লেখা প্রকাশ করার পাশাপাশি ভিডিও, অডিও এবং লিংক টিউন ও প্রকাশ করে উপার্জন করা যায় এতে। এটি থেকে প্রাপ্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমেও তুলা যাবে।

গ্রাথোর
বাংলায় লিখে উপার্জনের ক্ষেত্রে চমৎকার সাইটগুলোর একটি গ্রাথোর। এতে লেখালেখি ছাড়াও ভিজিট করে, কন্টেন্ট পড়ে এবং শেয়ার করেও আয় সম্ভব। আর তাছাড়াও সাবমিট করা কন্টেন্টের ভিউ অনুযায়ী টাকা যুক্ত হতে থাকবে। প্রতি আর্টিকেলে ১০ থেকে ১০০ টাকাও আয় করা সম্ভব। পেমেন্ট মেথড হিসেবে বিকাশ, রকেট এবং ব্যাংক একাউন্ট উল্লেখযোগ্য।

ইনকাম টিউনস
লেখালেখি করে আয় করার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাইটগুলোর একটি হলো ইনকাম টিউনস। এ সাইটে অনলাইনে আয় করার উপায় এবং ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে লিখে আয় করা যায়। প্রতি সাধারণ কন্টেন্ট এর জন্য ১০ করে এবং ইউনিক কন্টেন্ট এর ক্ষেত্রে ৫০- ১০০ টাকা পর্যন্ত পে করে থাকে। এছাড়া এই সাইট থেকে উপার্জনের রয়েছে আরো অনেক সুযোগ। রেফার করে সাইন-আপ করে, কন্টেন্ট পড়ে এবং কমেন্ট করেও উপার্জন করা যায়। পেমেন্ট মেথড হলো বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি।

অর্ডিনারি আইটি
লেখালেখি করে উপার্জনের ক্ষেত্রে অসাধারণ আরেকটি সাইট হলো অর্ডিনারি আইটি। এটি থেকে মাসে ৩০০০ থেকে শুরু করে ৮০০০ পর্যন্ত আয় সম্ভব। তবে এটি থেকে আয় করার জন্য দক্ষতা প্রয়োজন। আর দক্ষতার ক্ষেত্রে ৭দিনের কোর্স বাধ্যতামূলক। যে কোর্স করতে টাকা পে করতে হয়। এরপর প্রথম মাসের কাজের সাথে কোর্স ফি ফেরত দেওয়া হয়। এটিতে লেখার ক্ষেত্রে টপিক দেওয়া থাকলেও নিজ ইচ্ছানুসারেও লেখা যাবে।

প্রতিবর্তন
প্রতিবর্তন এ সর্বনিম্ন ৭০০ শব্দ লিখতে হবে। আর ৭০০ শব্দের জন্য ৩০ টাকা এবং ১০০০+ শব্দের জন্য ৫০ টাকা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ শব্দ বাড়ার সাথে সাথে অর্থ ও বাড়বে। স্পেশাল রাইটারদের জন্য সম্মানি হিসেবে ৭৫টাকা প্রদান করা হয়।

ইংরেজি আর্টিকেল লিখে আয় করার সাইট
Earth Island Journal
পরিবেশ ভিত্তিক সাইটগুলোর একটি হলো Earth Island Journal. এটি পরিবেশ রক্ষার্থে তিনমাস অন্তর অন্তর প্রকাশিত এক ম্যাগাজিন। এতে ভিন্নধর্মী তথা পরিবেশ নিয়ে লেখা গ্রহণযোগ্যতা বেশি পায়। এই সাইট পরিবেশ বাঁচানোর উপর আর্টিকেল লিখতে দেয় এবং তাদের কমান্ড অনুযায়ী লিখতে হয়। একটি ম্যাগাজিনের জন্য ১০০ ডলার পর্যন্ত ও পে করা হয়।

Listverse
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের Listverse ওয়েবসাইটটিতে লিখে আয় করার সুযোগ অনেক। তাদের নির্ধারিত টপিকের উপর লিখে প্রতি কন্টেন্ট ১০০ ডলার করে পাওয়া সম্ভব। যা পেপালের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

UX Booth
UX Booth মূলত ইংরেজী ভাষায় রিভিও লিখে আয় করার মত একটি সাইট। এই সাইটে নির্ধারিত পণ্যের রিভিও লিখে আয় করা সম্ভব। পণ্যের রিভিও লিখে সাইটে সাবমিট করলে এবং পাঠকরা রিভিও পছন্দ করলে আর পিছনে তাকানোর দরকার নাই প্রতি আর্টিকেলে ১০০ ডলার করেও দিয়ে থাকে।

Smashing Magazine
Smashing Magazine ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক একটি ওয়েবসাইট। প্রতি কন্টেন্ট ৫০ ডলার থেকে ২০০ ডলার পাওয়া সম্ভব। পেমেন্ট মেথডগুলোর একটি হলো পেপাল।

A List Apart
ইংরেজী ভাষায় ইন্টারনেট বিষয়ক লেখালেখির করে উপার্জন করার ওয়েবসাইট এর মধ্যে অন্যতম হলো A List Apart. এ সাইটে সাবমিট করা কন্টেন্ট ২০০ ডলার পর্যন্ত পেমেন্ট করা হয়। পেমেন্ট মেথড পেপাল উল্লেখযোগ্য।

কন্টেন্ট রাইটিং এর ভবিষ্যৎ
মানসম্মত লেখালেখির ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ আলোময়। বাংলা মানসম্মত কন্টেন্ট খুঁজতে গেলে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ইংরেজি কন্টেন্ট এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী হওয়াতে এর লেখার মান উচ্চতর। দেশগুলোর বিভিন্ন বিষয়ের উপর সঠিক তথ্য উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর কন্টেন্ট লিখে ভবিষ্যৎ আলোকময় করা যেতে পারে। যাইহোক, মানসম্মত লেখার যথেষ্ট মাত্রায় চাহিদা থাকার কারণে সুন্দর করে লিখলে ভবিষ্যৎ ভালো নচেৎ ভালো নয়।

Author

I’m an expert in designing websites, fixing PHP functions or major bugs/errors, adding extra features on your website, managing your server (centos only) manage your panel.

Write A Comment